শ্বেতাদ্রোণ

  • শ্বেতাদ্রোণ

৳৫০০

স্থানীয় নাম সমূহঃ
শ্বেতাদ্রোণ বা ধুলফি হল লিউকাস গণের লামিয়াসি পরিবারের একটি প্রজাতি। যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে যেখানে এটি জন্মে, বিভিন্ন নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Leucas aspera এবং বাংলা ভাষায় একে শ্বেতাদ্রোণ, ধুলফি, দুলপি, দনকলস, ছোট হালকুশা, কলসকাঠি, দন্ডকলস, দুলফি শাক, দল কলস, দেবদ্রোণ, হলকষা, দ্রোণপুষ্পি, ছোটা হালকুশা,ডুরপি, ধুরপ, ধুবরি, দোর কলস, কান শিশা, কাউন শিশা, ধুরপ শাক নামে ডাকা হয় । মৌলভীবাজার জেলার চা বাগানের মুন্ডা আদিবাসীদের ভেতর এই শাক ডুরপি নামে পরিচিত। নেত্রকোণার হাজং আদিবাসীরা শাকটিকে ডংক্লাই ও দমকলস নামে ডাকেন। বাংলাদেশ ও ভারতে ধুলফি ঔষধি উদ্ভিদ ও আগাছা হিসাবে বেশি পরিচিত। তবে ভারতের ত্রিপুরা ও আসামে এর কচি গাছ শাক হিসাবে খাওয়া হয়।

তথ্য সূত্রঃ https://tinyurl.com/mrxms9b9

উপকারিতাঃ

শাক হিসেবে শ্বেতদ্রোণ গ্রামবাংলার মানুষের কাছে অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদ। ভেষজ চিকিৎসায় বহুকাল ধরে উদ্ভিদটি বহুল হয়ে আসছে। সাধারণত কচি কাণ্ডসহ পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয়। ভেষজ চিকিৎসায় পাতা এবং কাণ্ড ব্যবহৃত হয়ে থাকে। জ্বর, সর্দি, কাশি, কৃমি, পেটফাঁপা, বদহজম ও বাতের ব্যথায় শ্বেতদ্রোণের উপকারিতা ও ব্যবহার অনন্য। নানাধরনের ত্বকের রোগ ও এলার্জি কমে শ্বেতদ্রোণের ব্যবহারে। এটি বিভিন্ন পোকামাকড়, সাপ ও বিছার কামড়ের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত। মেয়েদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত কমায় এটি। এছাড়া এই শাক শ্বেতপ্রদর(leucorrhoea), অ্যাজমা, সাইনাসের প্রদাহ(Sinusitis) সারায়।

তথ্য সূত্রঃ https://tinyurl.com/yxz79ur6

ব্যবহারবিধিঃ

১. কারও সর্দি, জ্বর ও শরীর ব্যথা করলে এই পাতা সিদ্ধ করে কালিজিরা, রসুন হালকা ভেজে অল্প মরিচসহ বেটে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। বাচ্চা বা বড়দের কান ব্যথা হলে, বা কান দিয়ে পানি বের হলে তখন ৫ টি পাতা তুলে পরিষ্কার করে ধুয়ে হাতের তালুতে কচলিয়ে রস করে ২ ফোঁটা রস কানের ভিতর দিলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

২. শরীর ব্যথা, হাত পা চাবালে ও কামড়ালে দন্ডকলস পাতা, নিশিন্দা পাতা, নিম পাতা ও হলুদ একত্রে বেটে বড়ি তৈরি করে ভালকরে রোদে শুকিয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল ১ টি করে বড়ি খেলে ভাল উপকার পাওয়া যায়।

৩. কাশি হলে, দন্ডকলসের পাতা ও শিকড় আদাসহ রস করে একটু গরম করে খেলে কাশি কমে যাবে।

৪. অনেকের বাতের ব্যথায় হাত, পা ফুলে যায় সেই সময় এই পাতার রস করে এক চিমটি লবণ দিয়ে মালিশ করলে ব্যথা কমে যাবে।

৫. বাচ্চাদের সব সময় সর্দি লেগে থাকে, সেই সময় এই পাতা বেটে রস করে মায়ের দুধের সাথে মিশিয়ে মাথার তালুতে দিয়ে রাখলে সর্দি কমে যাবে।

৬. এছাড়া ফুল তুলে সেই ফুল মায়ের বুকের দুধের সাথে কচলিয়ে সেই দুধ খাওয়ালে সর্দি ভাল হয়ে যায়।

৭. বাচ্চাদর পেটে কৃমি হলে দন্ডকলসের পাতা রস করে ১ চামচ করে ৪-৫ দিন খাওয়ালে কৃমি মরে যায়।

৮. বাচ্চাদের পাতলা পায়খানা হলে বা পায়খানার সাথে একটু একটু বিজল (আম) বের হলে সেই সময় পাতার রস করে খাটি মধু মিশিয়ে তিন দিন খেলে ভাল উপকার পাওয়া য়ায়।

৯. চুলকানি হলে এই পাতার রস কাঁচাহলুদের রসের সাথে নারকেল তেল মিশিয়ে শরীরে মাখিয়ে কিছুক্ষণ রোদে থেকে গোসল করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। এই ভাবে এক সপ্তাহ পর্যন্ত লাগাতে হবে।

তথ্য সূত্রঃ https://tinyurl.com/4d739txz

শ্বেতাদ্রোণ এর গুড়া করা যায় কিনাঃ

না, শ্বেতদ্রোণ এর পাতা বেটে ও রস করে ব্যবহার করা হয়।

বিস্তারিত আরো জানতে- ভিডিও লিংকঃ https://www.youtube.com/watch?v=30f-VuE1SA8